মৌমাছি নিয়ে কোরআনের আয়াত

সায়েন্স টাইমসের মতে, পৃথিবীতে যত রকমের চাষ মানুষ করে থাকে তার ৭০ শতাংশ নির্ভর করে মৌমাছির ওপর। যদি মৌমাছি ফুলে ফুলে উড়ে মধু আহরণ না করে, তাহলে তাদের গায়ে ফুলের পরাগরেণু লাগবে না। সেই রেণু অন্য ফুলের গায়ে না লাগলে হবে না পরাগায়ণ। মৌমাছি  আরবিতে বলা হয় ‘নাহল’। পবিত্র কোরআনে ‘নাহল’ নামে একটি সুরাই অবতীর্ণ হয়েছে।

মৌমাছি নিয়ে কোরআনের আয়াত

পবিত্র কুরআনে ‘সূরা আন-নাহল’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা রয়েছে।এই সূরার ৬৮ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন,

وَاَوۡحٰی رَبُّکَ اِلَی النَّحۡلِ اَنِ اتَّخِذِیۡ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا یَعۡرِشُوۡنَ ۙ 

আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেনঃ পর্বতগাহ্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরী কর।

লক্ষণীয় যে,এখানে সন্তান জন্মদানের কথা বলা হচ্ছে না বরং গৃহ (মৌচাক) নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। ‘Karl Von-Frisch’ বলেছেন মৌচাক নির্মাণের কাজ করে স্ত্রী কর্মী মৌমাছি।

আরবিতে পুরুষ মৌমাছির জন্য ব্যবহৃত শব্দ হলো ‘ইত্তাখিজ’ আর স্ত্রী মৌমাছির জন্য ব্যবহৃত শব্দ হলো ‘ইত্তাখিজি’। উপরের আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ‘ইত্তাখিজ’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘ইত্তাখিজি’  শব্দ ব্যবহার করেছেন। তাহলে নিশ্চিতভাবে বুঝা যায়, এই আয়াতে  মৌমাছির  প্রতি যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই স্ত্রী মৌমাছির জন্য। যদি এই নির্দেশ পুরুষ মৌমাছির জন্য  হত তাহলে উক্ত আয়াতে ‘ইত্তাখিজি’ ব্যবহার না করে ‘ইত্তাখিজ’ শব্দ ব্যবহার করা হত। আর যদি ‘ইত্তাখিজ’  শব্দ ব্যবহার হত তাহলে সেটা আরবি ব্যাকরন অনুসারে ভুল তো হতোই,  আধুনিক বিজ্ঞান  অনুসারেও সেটা ভুল প্রমাণ হত।(মৌমাছি নিয়ে কোরআনের আয়াত)

কারণ ‘Karl Von-Frisch’  প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে মধু সংগ্রহ করা, মৌচাক নির্মাণ এগুলো পুরুষ মৌমাছি নয় বরং স্ত্রী মৌমাছি করে থাকে। সুবহানাল্লাহ!! বিজ্ঞান  যা জানতে পারলো ১৯৭৩ সালে কুরআন তা কত আগেই সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে।

সূরা নাহলের ৬৯ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, 

ثُمَّ کُلِیۡ مِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسۡلُکِیۡ سُبُلَ رَبِّکِ ذُلُلًا ؕ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ 

(আন নাহল – ৬৯)

এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার সহজ পথে  চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।

এই আয়াতে,

খাবার এর ক্ষেত্রেঃ আরবি ‘কুল’ পুরুষবাচক; আর ‘কুলি’ মহিলা বাচক। কিন্তু পবিত্র কুরআনের ‘কুলি (মহিলা বাচক)’ ব্যবহার হয়েছে।

পথ অনুসরণঃ আরবি ‘উসলুক’ পুরুষবাচক; আর ‘উসলুকি’ মহিলা বাচক। কিন্তু পবিত্র কুরআনে ‘উসলুকি (মহিলা বাচক)’ ব্যবহার হয়েছে।

তাদের পেটঃ আরবি ‘বুতুনিহিম’ পুরুষবাচক; আর ‘বুতুনিহা’ মহিলা বাচক। কিন্তু পবিত্র কুরআনে ‘বুতুনিহা (মহিলা বাচক)’ ব্যবহার হয়েছে।

যদি মহান আল্লাহ তা’য়ালা বা রাসূল (স) এর মাধ্যমে এদের পুরুষ বলা হত তাহলে এতদিনে পবিত্র কুরআনকে ভুল বলে আখ্যা দেওয়া হত!!

এখন আসি, এই আয়াতে আল্লাহ কেন বললেন ‘আপন পালনকর্তার সহজ পথে চলমান হও’। এটাকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা যায় ‘মৌমাছির নৃত্য (Waggle Dance)’ এর সাহায্যে।

‘Karl Von-Frisch’ প্রমাণ করেছেন যে, একটি কর্মী মৌমাছি যখন নতুন কোন ফুলের উদ্যানের সন্ধান পায়, সাথে সাথে সে অন্য কর্মী মৌমাছিদের ঐ উদ্যান সম্পর্কে অবহিত করে। মৌমাছিটি ঠিক যে পথে গিয়ে সেই ফুলের উদ্যানের সন্ধান পায়, অন্যদেরও ঠিক একই পথের সন্ধান দেয়। মৌমাছিটি পথের এই সন্ধান দানে কোনোরকম হেরফের করে না।ঠিক যে পথে গিয়ে দেখেছে, তাই-ই অন্যদের জানায়।এটাই তাদের জন্য সহজ পথ নয় কি? ‘Karl Von-Frisch’ এর ভাষায় এটি হল ‘Waggle Dance’। কুরআনও ঠিক একই কথা বলছে।সঠিক যে পথ,য তারা জানে,যা তার জন্য সহজ এবং যা অন্যান্যদের জন্যও সহজ। (মৌমাছি নিয়ে কুরআন থেকে গবেষণা)

আয়াতে আরো বলা হয়েছে, ‘তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার’।

আমরা আগে জানতাম,মৌমাছি বিভিন্ন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে অতঃপর তা সরাসরি মৌচাকে মজুদ করে রাখে।কিন্তু বিজ্ঞান কিছুদিন আগে প্রমাণ করেছে,মধু মৌমাছির শরীর থেকে বের হয়।যা কুরআনের উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে । কুরআন আরো বলেছে মধুর ওষুধীগুণের কথা।আজ আমরা জানতে পেরেছি, মধুর মধ্যে রয়েছে প্রচুর খাদ্যগুণ,ভিটামিন কে আর ফ্রুক্টোজ, আরো আছে মাঝারি এন্টিসেপ্টিক গুণ।পুড়ে যাওয়া বা কেটে যাওয়া জায়গায় মধু লাগিয়ে রাখলে কোন রকম ইনফেকশন হয় না বরং কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্বালাপোড়া ভাব কমে যায়।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা কত সুন্দর এবং নিখুঁতভাবে দুই আয়াতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

source: collected



from bddreamjobs.com

Post a Comment

Previous Post Next Post